Rasel Sheikh
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১:০৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

‘ওয়ান হেলথ কার্যক্রম: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যত কৌশল’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকালে ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘ওয়ান হেলথ কার্যক্রমঃ সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যত কৌশল’-শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেনপরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়গুলোকে কেন্দ্রস্থলে রেখে সমন্বিত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি। উন্নয়নের নামে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ধ্বংস হলে তার চূড়ান্ত মূল্য সমাজকেই দিতে হয়। তিনি বলেন, রাস্তা বা অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব হলেও একটি সুন্দরবন কিংবা একটি নদী নতুন করে সৃষ্টি করা যায় না। জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি ও পরিবেশগত সংকট আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত এবং মানুষ প্রকৃতির মালিক নয়, বরং এর অবিচ্ছেদ্য অংশ।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, ওয়ান হেলথ কেবল একটি কারিগরি কাঠামো নয়; এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিষয়। কেন বন্যপ্রাণী রক্ষা করা প্রয়োজন এবং কেন প্রকৃতিনির্ভর উন্নয়ন অপরিহার্য—এসব বিষয় সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত না হলে কোনো উন্নয়ন উদ্যোগই টেকসই হতে পারে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকার সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতিগত সংস্কার এবং কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে ওয়ান হেলথ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, জনস্বার্থের সুরক্ষা বিবেচনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, ওয়ান হেলথ কেবল একটি বক্তৃতার বিষয় নয়; এর জন্য প্রয়োজন বাস্তব কমিটমেন্ট, নীতিগত অঙ্গীকার এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করার মানসিকতা। খণ্ডিতভাবে কাজ করার সময় শেষ, এখন প্রয়োজন ‘হোল অব গভর্নমেন্ট’ ও ‘হোল অব নেশন’ অ্যাপ্রোচ।

তিনি বলেন, মানুষ যেমন রোগের ভুক্তভোগী, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে মানুষই রোগের জন্য দায়ী। অনিরাপদ খাদ্য, পরিবেশ দূষণ, অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এসব মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, জেনেটিক রোগ, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়গুলো গভীরভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। এ প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত ওয়ান হেলথ প্রকল্পে তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ডিপিপির আওতায় তিনটি প্রকল্প পরিচালক রেখে কার্যক্রম বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রত্যেক খাত সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকে।

 

আরএস

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টেকসই নদী শাসন ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিতে হবে : পরিবেশ উপদেষ্টা

‘ওয়ান হেলথ কার্যক্রম: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যত কৌশল’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আজ ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস’

নিরাপত্তার জন্য ইসির কাছে আবেদন করলেন এমপি প্রার্থী সিগমা ও ফুয়াদ

রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ১২ ফান্ড তদন্তে ৬টি কমিটি গঠন করল বিএসইসি

বিকেলে বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করবেন পররাষ্ট্র সচিব

ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে দক্ষিণ এশিয়া

কোরআনের পাঁচটি সূরায় তাসবিহের মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা

শীতে ত্বক ভালো রাখতে যেসব উপাদান এড়িয়ে চলবেন

বাংলাদেশি শিল্পীদের কাজ ‘চেটেপুটে খাই’—বললেন সোহিনী

১০

সব সময় পাশে থাকবেন, দোয়ায় রাখবেন: শাবনূর

১১

বিশ্বকাপে কত টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশের ম্যাচ, টিকিটমূল্য প্রকাশ

১২

২০২৬ বিশ্বকাপে রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা ফিফার

১৩

৫৭ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে জামায়াত

১৪

খালেদা জিয়া–তারেক রহমানের নিরাপত্তা টিমের প্রধান শামছুল ইসলাম

১৫

যুক্তরাজ্য সফরে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান

১৬

সময়ের আগেই জ্বালানি দক্ষতার লক্ষ্য অর্জন করতে পারে বাংলাদেশ: আইইইএফএ

১৭

প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ছাড়াল ৪ লাখ ৮৩ হাজার

১৮

ওয়ান হেলথ বাস্তবায়নে তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত অঙ্গীকার জরুরি: ফরিদা আখতার

১৯

হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন

২০