Rasel Sheikh
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সময়ের আগেই জ্বালানি দক্ষতার লক্ষ্য অর্জন করতে পারে বাংলাদেশ: আইইইএফএ

গত এক দশকে জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ।

এ ধারা অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত সময়ের আগেই জ্বালানি দক্ষতার লক্ষ্য অর্জন করতে পারে দেশ—এমন তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)-এর এক প্রতিবেদনে।

‘বাংলাদেশ এনার্জি এফিশিয়েন্সি গোলস উইথিন রিচ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সাল থেকে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পেরেছে। এতে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমেছে, অন্যদিকে পরিবেশগত সুবিধাও মিলেছে।

প্রতিবেদনটির লেখক এবং আইইইএফএ দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, ২০১৪–১৫ অর্থবছর থেকে ২০২৩–২৪ অর্থবছর পর্যন্ত দেশে জ্বালানি দক্ষতা বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। যেখানে ২০৩০ সালের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২০ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ২০২৩–২৪ অর্থবছরেই জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে ৭ দশমিক ২ মিলিয়ন টন তেলসমতুল্য জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার কমেছে। এর ফলে প্রায় ৩ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ জ্বালানি আমদানি ব্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

আইইইএফএ জানায়, ২০১৬–১৭ অর্থবছরের পর প্রাথমিক অগ্রগতির পর কিছু সময় জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। তবে ২০২১–২২ অর্থবছরের পর বৈশ্বিক জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকট জ্বালানি দক্ষতাকে নতুন করে জরুরি অগ্রাধিকারে পরিণত করে। এ ক্ষেত্রে ২০১৬ সালে প্রণীত এনার্জি এফিশিয়েন্সি অ্যান্ড কনজারভেশন মাস্টার প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

শফিকুল আলম আরও বলেন, বাংলাদেশে বার্ষিক গড় জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির হার প্রায় ১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এই হার বজায় থাকলে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের অন্তত এক বছর আগেই অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে জ্বালানি দক্ষতা আরও বাড়াতে কয়েকটি সুপারিশও করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে দেশব্যাপী জ্বালানি দক্ষতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো, বড় জ্বালানি ভোক্তাদের আওতা বৃদ্ধি এবং তাদের জন্য নির্দিষ্ট সাশ্রয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।

এ ছাড়া নতুন ভবনে বিদ্যুৎ–সাশ্রয়ী নকশা উৎসাহিত করতে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরতা কমে।

প্রতিবেদনটিতে জ্বালানি দক্ষতা প্রকল্প বাস্তবায়নের সব চ্যালেঞ্জ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ‘সুপার এনার্জি সার্ভিস কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের প্রকল্পে স্বল্পমূল্যের অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংক–সমর্থিত সহজলভ্য অর্থায়নের সুযোগ তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে।

আরএস

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টেকসই নদী শাসন ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিতে হবে : পরিবেশ উপদেষ্টা

‘ওয়ান হেলথ কার্যক্রম: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যত কৌশল’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আজ ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস’

নিরাপত্তার জন্য ইসির কাছে আবেদন করলেন এমপি প্রার্থী সিগমা ও ফুয়াদ

রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ১২ ফান্ড তদন্তে ৬টি কমিটি গঠন করল বিএসইসি

বিকেলে বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করবেন পররাষ্ট্র সচিব

ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে দক্ষিণ এশিয়া

কোরআনের পাঁচটি সূরায় তাসবিহের মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা

শীতে ত্বক ভালো রাখতে যেসব উপাদান এড়িয়ে চলবেন

বাংলাদেশি শিল্পীদের কাজ ‘চেটেপুটে খাই’—বললেন সোহিনী

১০

সব সময় পাশে থাকবেন, দোয়ায় রাখবেন: শাবনূর

১১

বিশ্বকাপে কত টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশের ম্যাচ, টিকিটমূল্য প্রকাশ

১২

২০২৬ বিশ্বকাপে রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা ফিফার

১৩

৫৭ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে জামায়াত

১৪

খালেদা জিয়া–তারেক রহমানের নিরাপত্তা টিমের প্রধান শামছুল ইসলাম

১৫

যুক্তরাজ্য সফরে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান

১৬

সময়ের আগেই জ্বালানি দক্ষতার লক্ষ্য অর্জন করতে পারে বাংলাদেশ: আইইইএফএ

১৭

প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ছাড়াল ৪ লাখ ৮৩ হাজার

১৮

ওয়ান হেলথ বাস্তবায়নে তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত অঙ্গীকার জরুরি: ফরিদা আখতার

১৯

হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন

২০