
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো স্থানীয়ভাবে তৈরি বৈদ্যুতিক যানবাহন আগামী জুলাই মাসে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসতে যাচ্ছে। দেশের শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়ে বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক গাড়ি, মোটরসাইকেল ও বাণিজ্যিক যানবাহন বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে স্থানীয়ভাবে তৈরি বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রদর্শন করা হয়। সেখানে তিনি নিজেই একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি চালিয়ে দেখেন এবং এ খাতে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রদর্শনীতে প্রতিষ্ঠানটির তৈরি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ছিল স্পোর্টস ইউটিলিটি যান, মোটরসাইকেল, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও অটোরিকশা।
পরে বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এ মান্নান হোসেন খান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মাসুদ কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্প ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে এ মান্নান হোসেন খান জানান, যানবাহনগুলো স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হলেও কিছু কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক যানবাহন তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর শুল্ক সুবিধা দেওয়া হলে উৎপাদন ব্যয় আরও কমানো সম্ভব হবে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মাসুদ কবির বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই যানবাহনগুলো তৈরি করা হয়েছে। ইউরোপীয় মান অনুসরণ করায় ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানির সুযোগও তৈরি হতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের তৈরি বৈদ্যুতিক স্পোর্টস ইউটিলিটি যান একবার পূর্ণ চার্জে ৪৫০ কিলোমিটারের বেশি চলতে সক্ষম। সাধারণ চার্জিং ব্যবস্থায় ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ হতে সময় লাগে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা। দ্রুত চার্জিং ব্যবস্থায় প্রায় ৩০ মিনিটেই চার্জ সম্পন্ন করা সম্ভব।
অন্যদিকে বৈদ্যুতিক ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান একবার চার্জে প্রায় ২০০ কিলোমিটার চলতে পারবে। এসব যানবাহনের ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লাগে এবং দ্রুত চার্জিং ব্যবস্থায় প্রায় ৪০ মিনিটে চার্জ সম্পন্ন হয়।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসব যানবাহন পুরোপুরি ব্যাটারিচালিত ও পরিবেশবান্ধব। এতে কোনো ধরনের জ্বালানি তেল প্রয়োজন হয় না এবং প্রচলিত যানবাহনের তুলনায় পরিচালন ব্যয়ও অনেক কম।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে যানবাহনের দাম সহনীয় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে দ্রুত বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হয়।
প্রধান উপদেষ্টা এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত রেখে শিল্প উন্নয়নে অবদান রাখতে পারলে সরকার এ খাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদন কারখানা গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারাই দেশের প্রথম গাড়ি নির্মাতা, যারা স্থানীয়ভাবে বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্ল্যাটফর্ম ও গাড়ির কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
মীর মাসুদ কবির বলেন, গ্রাহকসেবা ও নির্ভরযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারা কাজ করছেন। সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহনের অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের সব যানবাহনের সঙ্গে পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবা থাকবে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যানবাহনে অপসারণযোগ্য ব্যাটারির সুবিধা রাখা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা সহজে ব্যাটারি চার্জ করতে পারেন।
মন্তব্য করুন