
ব্যাংক খাতের আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে নগদ লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন দুই হাজার কোটি টাকার কম, তারা ২০২৬ হিসাব বছর থেকে কোনো ধরনের নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না।
এ বিষয়ে গতকাল শনিবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যাংকগুলোর মূলধন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, যেসব ব্যাংক বিদ্যমান শর্ত পূরণ করে নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে, তারাও ঘোষিত মোট লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদ হিসেবে বিতরণ করতে পারবে। অবশিষ্ট অংশ দিতে হবে শেয়ার লভ্যাংশ আকারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছর এবং পরবর্তী বছরগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে। তবে এ-সংক্রান্ত ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ জারি করা অন্যান্য নির্দেশনা আগের মতো বহাল থাকবে।
বর্তমানে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানই লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারছে না। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার দুই অঙ্কে পৌঁছায়, তারা লভ্যাংশ দিতে পারে না। একইভাবে মূলধন ঘাটতি বা নিরাপত্তা সঞ্চিতিতে ঘাটতি থাকলেও লভ্যাংশ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা থাকে।
২০২৫ হিসাব বছরের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলো লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তবে আর্থিক দুর্বলতার কারণে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ১৬টি ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে পেরেছে। নতুন নির্দেশনার ফলে আগামী বছরগুলোতে নগদ লভ্যাংশ পাওয়া আরও সীমিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন