
ইসলামে শুধু নিজে গুনাহ করা নয়, অন্যকে পাপকাজে উৎসাহ দেওয়া বা সহযোগিতা করাও মারাত্মক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। যে ব্যক্তি কাউকে গুনাহের পথে ঠেলে দেয় কিংবা পাপকাজে সহায়তা করে, সে নিজেও সেই পাপের অংশীদার হয়—এমনটাই স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে কোরআন ও হাদিসে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) ও আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মানুষকে নেক আমলের দিকে আহ্বান করে, তার আহ্বানের কারণে যারা নেক কাজ করবে, তাদের সবার সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হবে—অথচ নেক আমলকারীদের সওয়াব একটুও কমবে না। আর যে ব্যক্তি মানুষকে পথভ্রষ্টতা ও পাপের দিকে আহ্বান করে, তার আহ্বানের কারণে যারা গুনাহে লিপ্ত হবে, তাদের সব পাপের ভার ওই আহ্বানকারীর ওপরও বর্তাবে—অথচ মূল গুনাহকারীদের পাপও একটুও কমানো হবে না। (কুরতুবি)
পবিত্র কোরআনেও বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের সম্পর্কে বলেন, তারা মুমিনদেরকে পাপকাজে প্রলুব্ধ করে বলত—‘তোমরা আমাদের পথে চলো, কিয়ামতের দিন তোমাদের পাপের বোঝা আমরা বহন করব।’ কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি কখনোই এমন নয়।
কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর কাফিররা মুমিনদেরকে বলে, তোমরা আমাদের পথ অনুসরণ করো, আমরা তোমাদের পাপভার বহন করব। অথচ তারা তাদের পাপভারের কিছুই বহন করবে না। নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী। তারা অবশ্যই বহন করবে নিজেদের পাপভার এবং নিজেদের বোঝার সঙ্গে আরও কিছু বোঝা। আর তারা যে মিথ্যা রটনা করত, সে বিষয়ে কিয়ামতের দিন অবশ্যই তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।”
(সুরা আনকাবুত, আয়াত: ১২–১৩)
তাফসিরকারদের মতে, কাফেররা মুসলিমদের বলত—আখিরাতের শাস্তির ভয় দেখিয়ে তোমাদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে। আমাদের পথে চললে যদি কোনো শাস্তি আসে, আমরা তা বহন করব। এই আশ্বাস সম্পূর্ণ মিথ্যা। কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে কেউ কারও পাপের দায় নেবে না।
বরং যারা অন্যকে বিভ্রান্ত করে পাপকাজে লিপ্ত করায়, তারা নিজেদের পাপের পাশাপাশি যাদের গোমরাহ করেছে, তাদের পাপের ভারও বহন করবে। ফলে তাদের শাস্তি আরও বহুগুণে বেড়ে যাবে।
ইসলামের শিক্ষা হলো—মুসলিম শুধু নিজের আমল নয়, তার কথা ও আচরণের মাধ্যমেও অন্যের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই পাপের কাজে সহযোগিতা থেকে দূরে থাকা যেমন জরুরি, তেমনি নেক কাজে মানুষকে উৎসাহিত করাই একজন মুমিনের প্রকৃত দায়িত্ব।
মন্তব্য করুন