Rasel Sheikh
১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:৪৯ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

গুনাহের কাজে সহযোগিতা করার ভয়াবহ পরিণতি

ইসলামে শুধু নিজে গুনাহ করা নয়, অন্যকে পাপকাজে উৎসাহ দেওয়া বা সহযোগিতা করাও মারাত্মক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। যে ব্যক্তি কাউকে গুনাহের পথে ঠেলে দেয় কিংবা পাপকাজে সহায়তা করে, সে নিজেও সেই পাপের অংশীদার হয়—এমনটাই স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে কোরআন ও হাদিসে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) ও আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মানুষকে নেক আমলের দিকে আহ্বান করে, তার আহ্বানের কারণে যারা নেক কাজ করবে, তাদের সবার সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হবে—অথচ নেক আমলকারীদের সওয়াব একটুও কমবে না। আর যে ব্যক্তি মানুষকে পথভ্রষ্টতা ও পাপের দিকে আহ্বান করে, তার আহ্বানের কারণে যারা গুনাহে লিপ্ত হবে, তাদের সব পাপের ভার ওই আহ্বানকারীর ওপরও বর্তাবে—অথচ মূল গুনাহকারীদের পাপও একটুও কমানো হবে না। (কুরতুবি)

পবিত্র কোরআনেও বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের সম্পর্কে বলেন, তারা মুমিনদেরকে পাপকাজে প্রলুব্ধ করে বলত—‘তোমরা আমাদের পথে চলো, কিয়ামতের দিন তোমাদের পাপের বোঝা আমরা বহন করব।’ কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি কখনোই এমন নয়।

কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর কাফিররা মুমিনদেরকে বলে, তোমরা আমাদের পথ অনুসরণ করো, আমরা তোমাদের পাপভার বহন করব। অথচ তারা তাদের পাপভারের কিছুই বহন করবে না। নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী। তারা অবশ্যই বহন করবে নিজেদের পাপভার এবং নিজেদের বোঝার সঙ্গে আরও কিছু বোঝা। আর তারা যে মিথ্যা রটনা করত, সে বিষয়ে কিয়ামতের দিন অবশ্যই তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।”
(সুরা আনকাবুত, আয়াত: ১২–১৩)

তাফসিরকারদের মতে, কাফেররা মুসলিমদের বলত—আখিরাতের শাস্তির ভয় দেখিয়ে তোমাদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে। আমাদের পথে চললে যদি কোনো শাস্তি আসে, আমরা তা বহন করব। এই আশ্বাস সম্পূর্ণ মিথ্যা। কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে কেউ কারও পাপের দায় নেবে না।

বরং যারা অন্যকে বিভ্রান্ত করে পাপকাজে লিপ্ত করায়, তারা নিজেদের পাপের পাশাপাশি যাদের গোমরাহ করেছে, তাদের পাপের ভারও বহন করবে। ফলে তাদের শাস্তি আরও বহুগুণে বেড়ে যাবে।

ইসলামের শিক্ষা হলো—মুসলিম শুধু নিজের আমল নয়, তার কথা ও আচরণের মাধ্যমেও অন্যের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই পাপের কাজে সহযোগিতা থেকে দূরে থাকা যেমন জরুরি, তেমনি নেক কাজে মানুষকে উৎসাহিত করাই একজন মুমিনের প্রকৃত দায়িত্ব।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

 আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ করার ভাবনা

২৯ কার্যদিবসেই ধর্ষণ মামলার রায়, শিশু ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড

আজ সরকারি অফিসের শেষ কর্মদিবস, সোমবার থেকে শুরু টানা সাত দিনের ঈদ ছুটি

পাঁচ বছরের করহার আগেই জানাতে পারে সরকার, বিনিয়োগবান্ধব কাঠামোর ইঙ্গিত

বিদ্যুতে স্বনির্ভর হতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দিচ্ছে সরকার: চিফ হুইপ

রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় জনশক্তি রফতানি: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পনা

চিনিযুক্ত পণ্যে ন্যূনতম কর কমতে পারে, স্বয়ংক্রিয় কর রিফান্ড চালুর ভাবনায় এনবিআর

গ্যাস সংযোগ না পেয়ে অলস পড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকার শিল্প বিনিয়োগ, থমকে কর্মসংস্থান

হামে মৃত্যু ৫০০ ছাড়াল, ভিটামিন এ ক্যাপসুল কিনছে সরকার; জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

দেশীয় প্রযুক্তির বৈদ্যুতিক গাড়ি চালিয়ে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী, শিল্প খাতে সহায়তার আশ্বাস

১০

জুলাইয়ে সড়কে নামছে দেশের প্রথম স্থানীয়ভাবে তৈরি বৈদ্যুতিক যানবাহন 

১১

রামিসা হত্যা মামলায় চার্জশিট আজ, আদালতে আনা হয়েছে সোহেল ও তার স্ত্রীকে

১২

দুই হাজার কোটি টাকার কম মূলধনের ব্যাংক নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না

১৩

ভর্তুকি কমালে বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে ৭৮ শতাংশ, গণশুনানিতে তীব্র প্রতিবাদ

১৪

রেকর্ড বিদ্যুৎ সক্ষমতার মাঝেও বাড়ছে লোডশেডিং, জ্বালানি সংকটে উৎপাদনে বড় ঘাটতি

১৫

বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ২৬ ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র, নতুন শর্তে বিদেশি বিনিয়োগের আশা

১৬

হরমুজ এড়িয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছাল আরও ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল

১৭

বিশ্ববাজারে দাম কমার প্রভাব, দেশে আবারও কমল উড়োজাহাজের জ্বালানির মূল্য

১৮

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর এবার বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব ঘিরে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা

১৯

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ৮ দিনে তিন দফা বাড়ল মূল্য

২০