তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় জাতীয় মহাপরিকল্পনা নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জনতার দল।
বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামালসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জনতার দল জোর দিয়ে বলেছে, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা উত্তরাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ, জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে লাখ লাখ একর জমি অনাবাদী হয়ে পড়ছে এবং সেচ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দলটি সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে যে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা অবিলম্বে নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে তৃতীয় পক্ষের (নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী) সম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি। তারা ইন্ডাস ওয়াটার ট্রিটির উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে বিশ্বব্যাংক সফলভাবে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কাজ করেছিল। তিস্তা চুক্তিতেও একই ধরনের নিরপেক্ষ মধ্যস্থতা নিশ্চিত করতে হবে।
জনতার দল প্রশ্ন তুলেছে, “তিস্তাকে বাদ দিয়ে পদ্মা ব্যারেজ কেন? উত্তরাঞ্চলের এত বড় সংকট থাকা সত্ত্বেও তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার না দিয়ে পদ্মা ব্যারেজকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে কেন?”
সংবাদ সম্মেলনে কৃষকদের বর্তমান দুর্দশার কথা তুলে ধরা হয়। ধান, আলু, পিয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন করে কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, সরকারি ক্রয়কেন্দ্রের অপ্রতুলতা ও বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা ও সচেতনতার অভাবে শিশুরা ঝুঁকিতে রয়েছে। দলটি জাতীয় পর্যায়ে জরুরি টিকাদান অভিযান, হাম আক্রান্ত এলাকায় চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
জনতার দলের তিন দফা দাবি:
জনতার দলের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল বলেন, তিস্তা আমাদের জাতীয় জীবনের প্রাণ। নিজস্ব অর্থায়নে ও তৃতীয়পক্ষের সম্পৃক্ততায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আর শিশুদের সুরক্ষা না দিতে পারলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তিনি সরকারের কাছে এই তিনটি জ্বলন্ত ইস্যুতে সুস্পষ্ট অবস্থান ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে সকল গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি কামনা করা হয়।
মন্তব্য করুন