
পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট জয়ের পর এটিকেই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সেরা অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ঐতিহাসিক এই সাফল্যের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে দলীয় পারফরম্যান্স এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি। ম্যাচ শেষে পুরস্কার হিসেবে পাওয়া দুটি মোটরবাইকের একটি নিয়ে মাঠে ঘুরছিলেন নাজমুল। এ সময় ছবি তোলার জন্য তাকে ঘিরে ধরেন উপস্থিত দর্শক ও ভক্তরা। ব্যস্ততার মাঝেই হাস্যরস করে তিনি বলেন, “সংবাদ সম্মেলনেও তো যেতে হবে!”
পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই সিরিজ মিলিয়ে চার ম্যাচেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। এর আগে একবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও টানা চার টেস্ট জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাকিস্তানকে বিবেচনায় নিয়ে এই অর্জনকে আরও বিশেষ বলে মনে করছেন অধিনায়ক। নাজমুল বলেন, “এখন পর্যন্ত এটাই সেরা অর্জন। তবে সামনে বাংলাদেশ আরও অনেক টেস্ট ম্যাচ খেলবে, সেখানে আরও বড় অর্জন আসবে—এটাই আশা।”
তবে সাফল্যের মধ্যেও উন্নতির জায়গা দেখছেন তিনি। অধিনায়ক বলেন, “এই চারটি ম্যাচ খুবই বিশেষ। আমরা অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছি। কিন্তু টেস্ট দলকে ধীরে ধীরে আরও গড়ে তুলতে হবে। এখনও অনেক জায়গায় উন্নতির সুযোগ আছে। দেশে ও দেশের বাইরে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারলে তখন বলা যাবে দলটি আরও শক্ত অবস্থানে যাচ্ছে।”
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দুটি টেস্টই গড়িয়েছে পঞ্চম দিনে। বিশেষ করে সিলেট টেস্টের শেষ দিনে জমে ওঠে নাটকীয়তা। পাকিস্তানের তখন জয়ের জন্য দরকার ছিল ১২১ রান, হাতে ছিল ৩ উইকেট। সাজিদ খান ও মোহাম্মদ রিজওয়ান প্রথম ঘণ্টায় বাংলাদেশের বোলারদের চাপে ফেলেছিলেন। সেই পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে নাজমুল বলেন, “শেষ এক ঘণ্টার আবেগ ব্যাখ্যা করা কঠিন। ওরা সত্যিই ভালো ব্যাটিং করছিল এবং আমরা কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। তবে আগের তুলনায় এখন আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা ও প্যানিক না করার দিকটা ভালো হয়েছে।”
পুরো সিরিজে দলীয় অবদানের প্রশংসাও করেন অধিনায়ক। কখনো ব্যাট হাতে লিটন দাস, আবার কখনো বল হাতে তাইজুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলাম দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন। নাজমুল বলেন, “দল হিসেবে খেলতে পারাটা বড় উন্নতির জায়গা। শুধু যারা খেলেছে তা নয়, যারা একাদশে সুযোগ পায়নি কিংবা কোচিং স্টাফ—সবার অবদান ছিল। অধিনায়ক হিসেবে প্রতিটি খেলোয়াড়ের পরিশ্রম ও মানসিকতা দেখে আমি খুব গর্বিত।”
মন্তব্য করুন