
গাজামুখী ত্রাণবাহী নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা-এর অন্তত দুটি জাহাজে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজকেরা। মঙ্গলবারের এ ঘটনায় সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজেও গুলির দৃশ্য দেখা গেছে। একই দিনে বহরের অর্ধশত নৌযানও আটক করেছে ইসরায়েল।
তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহার করেনি এবং এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
এর আগে গত এপ্রিলের শেষ দিকে গাজামুখী গ্লোবাল সুমুদের একটি নৌবহর আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকে দিয়েছিল ইসরায়েল। এবারের বহরটিও ত্রাণ নিয়ে গাজা উপত্যকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল।
গ্লোবাল সুমুদের যাত্রা সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনারা দুটি নৌযানের দিকে গুলি ছুড়ছে। তবে কী ধরনের গুলি ব্যবহার করা হয়েছে, তা ভিডিওতে স্পষ্ট নয়।
পরে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, কখনোই প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহার করা হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিকবার সতর্ক করার পর বিক্ষোভকারীদের দিকে নয়, বরং নৌযানগুলোর দিকে অপ্রাণঘাতী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে কেউ আহত হয়নি বলেও দাবি করেছে তারা।
এরপর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা জানায়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে থাকা তাদের বহরের ৫০টি নৌযানই আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪০টির বেশি দেশের ৪২৮ জন অংশগ্রহণকারীকে আটক করেছে ইসরায়েল। তাঁদের মধ্যে তুরস্কের ৭৮ নাগরিক রয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোট ৪৩০ জন আন্দোলনকর্মীকে ইসরায়েলি জাহাজে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে ইসরায়েলের পথে রয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের নিজ নিজ কনস্যুলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
নৌবহরে থাকা ব্যক্তিদের সংখ্যা নিয়ে ইসরায়েল ও ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষের তথ্যের মধ্যে পার্থক্যের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
সোমবার সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, তারা গাজার ‘বৈধ নৌ অবরোধ’ ভঙ্গের কোনো চেষ্টা মেনে নেবে না।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে আঙ্কারায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ফ্লোটিলায় হস্তক্ষেপের ঘটনায় ইসরায়েলের সমালোচনা করেন। তিনি এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
গত বৃহস্পতিবার তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তৃতীয়বারের মতো যাত্রা শুরু করে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার জাহাজগুলো। এর আগে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর আগের দুটি প্রচেষ্টাও ব্যর্থ করে দিয়েছিল ইসরায়েল।
এদিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ফ্লোটিলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। তাদের হামাসপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মন্তব্য করুন