Rasel Sheikh
২০ মে ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সান ডিয়েগোর মসজিদে হামলা ঠেকাতে প্রাণ দিলেন আমিন আবদুল্লাহ, ‘বিশ্বস্ত’ প্রহরীর বীরত্বে রক্ষা পেল বহু জীবন

সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে গুলিতে নিহত নিরাপত্তারক্ষী আমিন আবদুল্লাহ ছবি: আমিন আবদুল্লাহর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগো শহরের একটি মসজিদে সশস্ত্র হামলার চেষ্টা ঠেকাতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন নিরাপত্তারক্ষী আমিন আবদুল্লাহ। স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর সাহসিকতা সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

গত ১৮ মে সকালে সান ডিয়েগোর বৃহত্তম মসজিদগুলোর একটি ‘ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো’তে দুই কিশোর বন্দুকধারী হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় মসজিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আমিন আবদুল্লাহ হামলাকারীদের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। হামলায় তিনজন নিহত হন, তাঁদের একজন ছিলেন আমিন। পরে হামলাকারী দুই কিশোর আত্মহত্যা করে।

সান ডিয়েগোর পুলিশপ্রধান স্কট ওয়াহল এক সংবাদ সম্মেলনে আমিন আবদুল্লাহকে ‘বীর’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তাঁর অসাধারণ সাহসিকতার কারণেই বহু প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।

আমিনের সাবেক সহকর্মী কাশিফ উল হুদা আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক স্মৃতিচারণায় তাঁকে একজন সদা হাস্যোজ্জ্বল, দায়িত্বশীল ও মানুষকে আগলে রাখার মানসিকতার ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

কাশিফ জানান, কয়েক বছর আগে তাঁরা একটি ডেন্টাল অফিসে একসঙ্গে কাজ করতেন। যদিও পেশাগত কাজে আমিন খুব দক্ষ ছিলেন না, কিন্তু তাঁর আন্তরিকতা ও প্রাণবন্ত আচরণ সবাইকে মুগ্ধ করত। ইউনিফর্মধারী পেশাজীবীদের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল এবং তিনি সবসময় নিরাপত্তা বাহিনীতে কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে বাবার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে দীর্ঘদিন পর ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোতে আমিনের সঙ্গে কাশিফের দেখা হয়। সেদিন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আমিনকে দেখে তিনি বিস্মিত হলেও খুশি হয়েছিলেন যে তাঁর পুরোনো সহকর্মী নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছেন।

কাশিফ লিখেছেন, সেটিই ছিল তাঁদের শেষ দেখা। তাঁর ভাষায়, “আমিন নামের অর্থ ‘বিশ্বস্ত’। তিনি নিজের নামের মর্যাদা রেখেছেন। যেটা ভালোবাসতেন, সেটি করতেই প্রাণ দিয়েছেন।”

আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন আফ্রিকান-আমেরিকান বংশোদ্ভূত একজন মুসলিম। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সামাজিক বাস্তবতার পরিবর্তনের সাক্ষী ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষ ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এ ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় মুসলিম নেতারা বলছেন, ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাকিস্তানকে টানা চার টেস্টে হারানোই বাংলাদেশের সেরা অর্জন: নাজমুল হোসেন

ডেভিড বেকহামের জন্মদিনে মেয়ের অভিনব উপহার, বাবার নামে বিশেষ গোলাপ

খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের খাবারের মান নিয়ে ক্ষোভ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

লন্ডনে গুগলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শিক্ষামন্ত্রীর

বিদ্যুতের দাম আবার বাড়ছে: পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি ১.৫০ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব

ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের কর্মবিরতি, রোগীরা বিপাকে

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের দাবি জনতার দলের

ঈদকে কেন্দ্র করে জাল নোটের কারবার বেড়েছে, সক্রিয় প্রতারক চক্র

কক্সবাজারে সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যা: ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন

পাকিস্তানকে ঘরে-বাইরে ধবলধোলাই: টেস্ট ইতিহাসে ‘ফার্স্ট বয়’ বাংলাদেশ

১০

গাজামুখী ফ্লোটিলায় আবারও ইসরায়েলের গুলি, আটক অর্ধশত নৌযান

১১

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও তার পরিবারের ৭ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ

১২

ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ালো পাকিস্তান

১৩

হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন অমিতাভ বচ্চন

১৪

সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা আনসার বাহিনীকে দক্ষ ও গতিশীল করবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

১৫

প্রতারণা মামলায় বিদিশা সিদ্দিকের দুই বছরের কারাদণ্ড

১৬

কঙ্গোতে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ইবোলা প্রাদুর্ভাব, মৃত বেড়ে ১৩১

১৭

টাইগারদের পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জেতায় প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

১৮

পুঁজিবাজার, এনবিআর ও ব্যাংক খাতে বিকেন্দ্রীকরণে যাচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

১৯

বেইজিংয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা, শি জিনপিংকে ‘প্রিয় বন্ধু’ বললেন পুতিন

২০