
শি জিনপিং -কে আবারও “প্রিয় বন্ধু” বলে সম্বোধন করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুতিন বলেন, রাশিয়া-চীন সম্পর্ক বর্তমানে “অভূতপূর্ব উচ্চতায়” পৌঁছেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প -এর চীন সফরের পরপরই বেইজিং সফরে যান পুতিন। মঙ্গলবার গভীর রাতে তাকে বহনকারী বিমান বেইজিংয়ে পৌঁছালে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনারের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েং ই।
চলতি বছরে এটিই পুতিনের প্রথম বিদেশ সফর। বুধবার সকালে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিয়ে পুতিন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এই সাক্ষাতের অপেক্ষায় ছিলেন। জবাবে শি বলেন, উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনের পথে দুই দেশের উচিত একে অপরকে সহযোগিতা করা। বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। পুতিন জানান, চীনের জন্য রাশিয়া নির্ভরযোগ্য জ্বালানি অংশীদার হিসেবেই থাকবে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, বিশেষ করে জ্বালানি খাত, আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বর্তমানে চীন রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে। এ সময় ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস চীনে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে এই প্রকল্প চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে পারে। দুই দিনের সফরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পাশাপাশি দুই দেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে বিস্তৃত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে একাধিক কৌশলগত নথিতে স্বাক্ষর এবং যৌথ বিবৃতি প্রকাশের প্রস্তুতির কথাও কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
সফরের অংশ হিসেবে পুতিন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং -এর সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এছাড়া ফটো প্রদর্শনী পরিদর্শন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং অনানুষ্ঠানিক চা-আড্ডার কর্মসূচিও রয়েছে। বৈঠকে রুশ-ইউক্রেনীয় যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে। চীন এখন পর্যন্ত ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখলেও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে আসছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে মত দিয়ে আসছে।
মন্তব্য করুন