
দেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে দেশের সুরক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ আহ্বান জানান। স্ট্যাটাসে জামায়াত আমির বলেন, ‘শহীদ শরিফ ওসমান হাদির রক্ত আমাদের ঐক্যবদ্ধ করুক। বিভাজনের সুযোগ নিয়েই আধিপত্যবাদ আমাদের ওপর সওয়ার হয়। আমরা যদি আজ ঐক্যবদ্ধ হতে না পারি, তবে ওসমান হাদির স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে না। আসুন, বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি।’
বর্তমানে যুক্তরাজ্য সফরে রয়েছেন জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, ব্রিটিশ সরকারের আমন্ত্রণে তিনি বিদেশে অবস্থান করলেও তার মন পড়ে আছে বাংলাদেশে। তিনি নিয়মিত দেশের পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলেও উল্লেখ করেন।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তিনি লেখেন, হাদি একটি আধিপত্যমুক্ত, স্বাধীন ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেই লক্ষ্যেই সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তিনি সহিংসতার রাজনীতিতে নয়, বরং যুক্তি ও আদর্শের মাধ্যমে পরিবর্তনের বিশ্বাসী ছিলেন। জামায়াত আমিরের ভাষ্য, হাদির রক্ত কখনোই বিফলে যাবে না এবং তার স্বপ্নের ‘ইনসাফের বাংলাদেশ’ গড়তে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
হাদি হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ বিচার অবশ্যই হতে হবে। তবে ধৈর্য ও অবিচলতার সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করতে হবে। কোনো ষড়যন্ত্রকারী যেন সহিংসতা বা স্যাবোটাজের মাধ্যমে আন্দোলনকে কলুষিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে দেশবাসী যখন সোচ্চার, ঠিক তখনই কয়েকটি দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে।
তিনি প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ কয়েকটি গণমাধ্যম এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নুরুল কবিরের ওপর হামলা ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে বলেন, স্বাধীন গণমাধ্যম রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
এ ছাড়া হাইকমিশন কার্যালয় ও কয়েকটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ময়মনসিংহে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকেও তিনি সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দেন এবং বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের মূলধারার ইসলামপন্থি দল ও সংগঠনগুলো নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং কোনো অবস্থাতেই আইন হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষে নয়। পরিকল্পিতভাবে আন্দোলনকে স্যাবোটাজ করতেই কিছু পক্ষ এসব ঘটনা ঘটাতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে জবাবদিহিমূলক ও সক্রিয় করে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।
আরএস
মন্তব্য করুন