বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গ্রাহক ও পাইকারি—উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মূল্যহার প্রকাশ করা হয়, যেখানে গ্রাহক, পাইকারি এবং সঞ্চালন—তিন ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। লাইফলাইন গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে, যেখানে সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৭ টাকা ৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে গড়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সঞ্চালন ব্যয় ইউনিটপ্রতি ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩৯ পয়সা করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতে, উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি খরচ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে মোট ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। সে হিসেবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ প্রায় ১২ টাকা ৯১ পয়সা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ সঞ্চালন চার্জ আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও কমিশন বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে বর্তমান হার নির্ধারণ করেছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে শিল্প, ব্যবসা ও সাধারণ গ্রাহকদের ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা রয়েছে।
মন্তব্য করুন