
বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকি কমাতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে আবারও দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) দাম বৃদ্ধির আবেদন করেছে।
আজ বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টায় খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী গণশুনানি শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে পাইকারি দাম ও সঞ্চালন চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে শুনানি চলছে। আগামীকাল ২১ মে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে শুনানি হবে।
পিডিবি পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১.২০ টাকা (১৭%) থেকে ১.৫০ টাকা (২১%) বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। প্রতি ইউনিট উৎপাদন খরচ পড়বে ১২.৯১ টাকা। বর্তমান পাইকারি দামে আয় হবে মাত্র ৭৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়াবে প্রায় ৬৫ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা।
বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানিও লোকসান কমাতে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে:
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) প্রতি ইউনিট সঞ্চালন চার্জ ৩০-৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৮-৪৯ পয়সা করার প্রস্তাব করেছে।
সর্বশেষ গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে পাইকারি দাম ৬.৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭.০৪ টাকা করা হয়। বর্তমানে গড় উৎপাদন খরচ প্রায় ১৩ টাকা। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধিকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পিডিবি।
তবে বিশেষজ্ঞ ও ভোক্তা সংগঠনগুলো দুর্নীতি, অসম চুক্তি ও অব্যবস্থাপনাকে এই সংকটের মূল কারণ বলে মনে করেন।
গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে বিইআরসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
মন্তব্য করুন