
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড ও উড়ালসড়কের নিচে প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ এখন এক নিত্যদিনের দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। এতে শুধু নগরীর পরিবেশই নোংরা হচ্ছে না, বরং বাড়ছে জনস্বাস্থ্যঝুঁকি ও নাগরিক দুর্ভোগ। বিদেশি পর্যটকদের সামনেও এমন দৃশ্য দেশের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
সম্প্রতি রাজধানীর খিলক্ষেত, ফার্মগেট, জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, রাস্তার পাশ, ফুটপাতের দেয়াল কিংবা উন্মুক্ত স্থানে অনেকেই প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ করছেন। কোথাও কোথাও ‘এখানে প্রস্রাব করা নিষেধ’ লেখা থাকলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে।
খিলক্ষেত এলাকায় যানজটে আটকে থাকা একটি গাড়ির সামনে রাস্তার পাশে দুই যুবকের মূত্রত্যাগের ঘটনা দেখে বিদেশি পর্যটকদের বিব্রতকর প্রতিক্রিয়ার কথাও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। একই ধরনের দৃশ্য ফার্মগেট ও সচিবালয় এলাকার আশপাশেও দেখা গেছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, রাজধানীতে প্রয়োজনের তুলনায় পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা খুবই কম। যেসব টয়লেট রয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলো অপরিচ্ছন্ন, পানিশূন্য কিংবা অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে দীর্ঘসময় রাস্তায় থাকা চালক, হকার ও পথচারীদের অনেকেই বাধ্য হয়ে খোলা স্থান ব্যবহার করছেন।
বিশেষ করে নারী যাত্রীরা এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কারণ পুরুষদের মতো তাদের প্রকাশ্যে কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই। অনেক নারী কর্মজীবী ও যাত্রী জানিয়েছেন, দীর্ঘ যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকলেও নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য টয়লেট খুঁজে পাওয়া যায় না।
পরিবহনশ্রমিক ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, রাজধানীর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যবহারযোগ্য টয়লেটের অভাব রয়েছে। কোথাও টয়লেট থাকলেও তা এতটাই নোংরা থাকে যে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্মুক্ত স্থানে মূত্রত্যাগ শুধু দৃষ্টিকটু নয়, এটি রোগজীবাণু ছড়ানোর বড় উৎস। এতে ব্যাকটেরিয়া ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণাতেও ঢাকায় মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড, বাজার ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেট স্থাপন জরুরি। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পানির সরবরাহ, মনিটরিং এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিতে হবে।
তাঁরা আরও মনে করেন, শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালত বা জরিমানা দিয়ে এ সমস্যা পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিকল্পনা ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য করুন