আসন্ন বাজেটে সাধারণ করদাতাদের জন্য স্বস্তির বার্তা আসছে। সরকার ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে এই সীমা রয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নতুন এই সীমা ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে কার্যকর হবে।
মূলত উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের করের বোঝা কিছুটা কমাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাজেটে মধ্যবিত্তের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা থাকছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্বর্তী সরকার আগাম দুই অর্থবছরের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির কর কাঠামোর রূপরেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেই কাঠামো অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ বহাল থাকছে। পাশাপাশি করের বিভিন্ন স্তর বা স্ল্যাবেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্র বলছে, উচ্চ আয়ের ব্যক্তি, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও বড় সম্পদের মালিকদের করের আওতায় আরও কার্যকরভাবে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ডিজিটাল করব্যবস্থা, তথ্য বিনিময় ও ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষার মাধ্যমে কর ফাঁকি কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে করছাড় ও প্রণোদনা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। আধুনিক সম্পদ কর ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদভিত্তিক রাজস্ব আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামী বাজেটে অতি ধনীদের জন্য বাড়তি কর আরোপের নীতিগত সিদ্ধান্তও থাকছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে চালু থাকা সারচার্জ ব্যবস্থার পরিবর্তে ‘সম্পদ কর’ চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় সম্পদের মৌজামূল্যের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করা হবে। যেমন—
তবে এই সম্পদ কর কোনোভাবেই করদাতার প্রদেয় আয়করের চেয়ে বেশি হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আগামী অর্থবছর থেকেই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর অগ্রিম আয়কর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী—
তবে মধ্যবিত্তের ব্যবহৃত ১৫০০ থেকে ২৫০০ সিসির গাড়ির কর অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের সর্বোচ্চ করহার বর্তমানে ৩০ শতাংশ থাকলেও ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে তা বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হতে পারে।
একই সময়ে করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়িয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করার পরিকল্পনাও রয়েছে। যদিও ব্যবসায়ী সংগঠন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো মূল্যস্ফীতির বাস্তবতা বিবেচনায় আগামী অর্থবছর থেকেই করমুক্ত সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা করার সুপারিশ করেছে।
অপ্রদর্শিত সম্পদ বা কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ আবারও ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এবার বিশেষ করহার নয়, নিয়মিত করহারেই কর পরিশোধ করতে হবে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, যে অর্থবছরে আয় বা সম্পদ রিটার্নে দেখানো হয়নি, সেই বছরের নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করেই তা বৈধ করা যাবে।
এছাড়া আয়কর আইনে এমন বিধান যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে অপ্রদর্শিত সম্পদ রিটার্নে প্রদর্শনের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থা আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়। সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকার সেই সুবিধা বাতিল করেছিল।
মন্তব্য করুন