বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে আগামী রোববার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। গভীর সমুদ্রের ১৫টি এবং অগভীর সমুদ্রের ১১টি ব্লকসহ মোট ২৬টি ব্লকে অনুসন্ধানের সুযোগ দেওয়া হবে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ২০২৬’-এ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ইতোমধ্যে সংশোধিত মডেলের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রকাশের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সপ্তাহে দেশি-বিদেশি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন দেশে রোড শো ও কূটনৈতিক প্রচারণাও চালানো হবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংশোধিত পিএসসিকে আগের তুলনায় আরও বিনিয়োগবান্ধব ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করা হয়েছে। গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ, পাইপলাইন ব্যয়, তথ্য-উপাত্তের মূল্য এবং শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে মুনাফা প্রদানের হারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংশোধন আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন কাঠামো আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোর কাছে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে সরকার আশাবাদী।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আগামী ১ জুন থেকে প্রমোশনাল প্যাকেজ বিক্রি শুরু হবে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ নভেম্বর। এ সময়ের মধ্যে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো সমুদ্র এলাকায় পরিচালিত জরিপের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের সুযোগ পাবে।
সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নেওয়া ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দ্রুত এই আন্তর্জাতিক টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সংশোধিত চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ বছর পর গ্যাসের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হবে, যা একটি নির্ধারিত সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমার মধ্যে থাকবে।
আগের নিয়ম অনুযায়ী অনুসন্ধান পর্যায়ে কোম্পানিগুলোকে ৫০ শতাংশ এলাকা ছেড়ে দিতে হতো। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে।
এছাড়া—
আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির সুপারিশের ভিত্তিতেই এসব সংস্কার আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর বঙ্গোপসাগরে মোট ২৬টি ব্লক নির্ধারণ করা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও দীর্ঘ সময় বাড়ানোর পরও কোনো বিদেশি কোম্পানি চূড়ান্ত প্রস্তাব জমা দেয়নি। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গ্যাসের দাম, অবকাঠামো ব্যয় এবং শ্রমিক কল্যাণ তহবিল সংক্রান্ত আপত্তি বিবেচনায় নিয়ে নতুন ‘পিএসসি ২০২৬’ চূড়ান্ত করা হয়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সরকারের নতুন উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন।
বিশিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূতত্ত্ববিদ বদরুল ইমাম বলেন, দেশে গ্যাসের সংকট ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সমুদ্রে বড় পরিসরে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো অত্যন্ত জরুরি।
তার মতে, জাতীয় স্বার্থ ও জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রেখে বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ আকর্ষণীয় করা গেলে এবার ইতিবাচক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন