
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটির প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করে বলেছেন, ক্রমবর্ধমান চাহিদা, মজুত কমে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি হ্রাসের কারণে আগামী জুলাই-আগস্ট নাগাদ বৈশ্বিক তেলের বাজার ‘রেড জোন’ বা চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছাতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) লন্ডনের থিঙ্কট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউসে-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা বাড়বে। কিন্তু একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাজারে পর্যাপ্ত নতুন তেল সরবরাহ আসছে না, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ফাতিহ বিরলের মতে, এই সংকট নিরসনে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে উন্মুক্ত রাখা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৭৩ সালের তেল সংকট, ১৯৭৯ সালের জ্বালানি অস্থিরতা কিংবা ২০২২ সাল-পরবর্তী জ্বালানি সংকটের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
আইইএ প্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে—এমন সম্ভাবনাও খুব কম বলে মনে করছেন তিনি।
বিশেষ করে তেলনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলো, যেমন ইরাক, নতুন করে উৎপাদনে বিনিয়োগ সংকটে পড়তে পারে বলে উল্লেখ করেন ফাতিহ বিরল। তার ভাষায়, “জ্বালানি খাতের ওপর ভূ-রাজনীতির এত দীর্ঘ ও গভীর প্রভাব আগে কখনও দেখা যায়নি।”
এদিকে পাকিস্তান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও আলোচনায় অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসীন নাগভি বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন। তবে দেশটির সেনাপ্রধান আসিফ মুনির-এর সফর পিছিয়ে যাওয়ায় আলোচনার ফলাফল নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মজতুবা খামেনি জানিয়েছেন, দেশটি তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অন্য কোনো দেশে পাঠাবে না। বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই মজুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে ধ্বংস করতে পারে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল তদারকিতে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত এই উদ্যোগকে অবাস্তব বলে মন্তব্য করেছে। দেশটির জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাস বলেন, সামরিক চাপে পড়ে ইরান কৃত্রিম বাস্তবতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বিশ্বের অনেক দেশ এখন বিকল্প জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসের দিকে আরও দ্রুত ঝুঁকতে পারে।
মন্তব্য করুন