Rasel Sheikh
২০ মে ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় হঠাৎ বেড়ে যাওয়া জ্বালানি তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবস্থানের পর।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলার থেকে কমে প্রায় ১০৯ ডলারে নেমে আসে।

গত কয়েকদিন ধরে জ্বালানি বাজারে ব্যাপক দোলাচল দেখা দেয়। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বিশ্ববাজারে তেলের দামে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় দ্রুত বাড়তে শুরু করে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম।

সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে দেশটির জন্য বড় পরিণতি অপেক্ষা করছে। এ বক্তব্য প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যায়।

তবে পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ইরানি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে ইরানের অপরিশোধিত তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতার আশা তৈরি হয়।

এরপর ট্রাম্প জানান, কাতার, সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তির দিকে আলোচনা এগোচ্ছে।

তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে দিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যেকোনো সময় পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করা হতে পারে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বিমান পরিবহন, পর্যটন আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাকিস্তানকে টানা চার টেস্টে হারানোই বাংলাদেশের সেরা অর্জন: নাজমুল হোসেন

ডেভিড বেকহামের জন্মদিনে মেয়ের অভিনব উপহার, বাবার নামে বিশেষ গোলাপ

খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের খাবারের মান নিয়ে ক্ষোভ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

লন্ডনে গুগলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শিক্ষামন্ত্রীর

বিদ্যুতের দাম আবার বাড়ছে: পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি ১.৫০ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব

ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের কর্মবিরতি, রোগীরা বিপাকে

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের দাবি জনতার দলের

ঈদকে কেন্দ্র করে জাল নোটের কারবার বেড়েছে, সক্রিয় প্রতারক চক্র

কক্সবাজারে সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যা: ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন

পাকিস্তানকে ঘরে-বাইরে ধবলধোলাই: টেস্ট ইতিহাসে ‘ফার্স্ট বয়’ বাংলাদেশ

১০

গাজামুখী ফ্লোটিলায় আবারও ইসরায়েলের গুলি, আটক অর্ধশত নৌযান

১১

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও তার পরিবারের ৭ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ

১২

ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ালো পাকিস্তান

১৩

হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন অমিতাভ বচ্চন

১৪

সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা আনসার বাহিনীকে দক্ষ ও গতিশীল করবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

১৫

প্রতারণা মামলায় বিদিশা সিদ্দিকের দুই বছরের কারাদণ্ড

১৬

কঙ্গোতে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ইবোলা প্রাদুর্ভাব, মৃত বেড়ে ১৩১

১৭

টাইগারদের পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জেতায় প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

১৮

পুঁজিবাজার, এনবিআর ও ব্যাংক খাতে বিকেন্দ্রীকরণে যাচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

১৯

বেইজিংয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা, শি জিনপিংকে ‘প্রিয় বন্ধু’ বললেন পুতিন

২০