জুলাই আন্দোলনের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনায় আলোচিত সামরিক কর্মকর্তা কর্নেল জিএম রাজিব আহমেদকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়াকে ঘিরে সেনাবাহিনীর ভেতরে-বাইরে নানা আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনা ও সাবেক সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত রাজিবের এই পদোন্নতিতে বাহিনীর অনেক কর্মকর্তার মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গত দেড় দশকে বঞ্চিত বলে দাবি করা একাংশের কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
তাদের মতে, জুলাই আন্দোলনের সময় বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ থাকা কোনো কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া বাহিনীর ভাবমূর্তি এবং সরকারের অবস্থান—দুই ক্ষেত্রেই নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
সূত্রগুলো বলছে, রাজিবের পদোন্নতির পেছনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তার সুপারিশ ছিল। এর আগেও ওই কর্মকর্তার সুপারিশে তাকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষিণ সুদানে টিম কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সম্প্রতি মিশন শেষ করে দেশে ফেরেন তিনি।
প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের আগস্টে কর্নেল জিএম রাজিব আহমেদ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। পরে তিনি কর্নেল পদে উন্নীত হন এবং উপসামরিক সচিব হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়নে রাজিব সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। আন্দোলন চলাকালে ভাইরাল হওয়া একটি অডিও ক্লিপ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনার কথা শোনা যায় বলে দাবি করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন