আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের মহাসড়কগুলোতে বাড়ছে যানজটের আশঙ্কা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এবার ঢাকা থেকে অন্তত এক কোটি মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করবে। এর প্রায় ৮৫ শতাংশ যাত্রীই মহাসড়ক ব্যবহার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মহাসড়ক পুলিশ ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের তথ্য বলছে, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের সাতটি মহাসড়কে অন্তত ৯৪টি স্থানকে যানজটপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে রয়েছে ২৫টি করে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ২১টি, ঢাকা-ময়মনসিংহে সাতটি, ঢাকা-আরিচায় সাতটি, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে আটটি এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একটি যানজটপ্রবণ স্থান রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি বিকল হয়ে পড়া, মহাসড়কে পশুর হাট বসানো, পশুবাহী ট্রাকের চাপ, অবৈধ স্থাপনা এবং ভাঙাচোরা সড়ক—এসব কারণে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বাড়তে পারে।
ড. সামছুল হক বলেন, আগের তুলনায় ঈদযাত্রায় যানজট কিছুটা কমলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো জরুরি।
বাংলাদেশ অটোরিকশা, অটো টেম্পো ও ট্যাক্সিকার চালক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খোকন বলেন, মহাসড়কে তিন চাকার যান ও মোটরসাইকেলের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের যানজট বিশেষজ্ঞ সন্তোষ কুমার রায় জানান, ঈদে মহাসড়কে গাড়ির চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সাধারণ সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার গাড়ি চললেও ঈদে তা বেড়ে ৬০ হাজারে পৌঁছায়। একইভাবে ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে গাড়ির সংখ্যা ২২ হাজার থেকে বেড়ে প্রায় ৬৪ হাজার হয়।
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মুনতাসিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, কোরবানির ঈদে যাত্রীবাহী যানবাহনের পাশাপাশি পশুবাহী ট্রাকের চাপও বাড়ে। এ কারণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, কন্ট্রোলরুম স্থাপন, সিসিটিভি নজরদারি এবং বাড়তি প্যাট্রলিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে বৈঠক করেছে। ঈদের আগে টানা ছুটি, ধাপে ধাপে শিল্পকারখানা বন্ধ রাখা এবং মহাসড়কে পশুর হাট নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবায়নে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে যানজট নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ঈদে ঢাকা ছাড়ার মানুষের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাত্রী চলাচল আরও বেড়েছে। একইভাবে যমুনা সেতু দিয়েও উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহনের চাপ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদযাত্রায় স্বস্তি নিশ্চিত করতে হলে শুধু সড়ক মেরামত নয়, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, পশুর হাট ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ে সমন্বিত তদারকি আরও জোরদার করতে হবে।
মন্তব্য করুন